সর্বশেষ সংবাদ


ফতুল্লা

রূপগঞ্জ

সিদ্ধিরগঞ্জ

From our Blog

বিএনপির ত্রাণ বিতরণ কালে আজাদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন: এম, এ, এম সাগর

স্টাফ রিপোর্টার :  বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের মহাদুর্যোগময় সময়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার আসন থেকে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ আজ নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে গরীব ও দুস্থদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করতে গেলে স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়।

হামলায় নজরুল ইসলাম আজাদসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। গুরুতর আহত নজরুল ইসলাম আজাদ বর্তমানে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দ্বারা সংঘটিত এই ন্যাক্কারজনক হামলা ও নেতাকর্মীদের আহত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের যুগ্ন-সাধরণ সম্পাদক এম,এ,এম সাগর ।

মঙ্গলবার ( ২রা জুন ) এক বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সাগর বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম আজাদের উপর এ ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই । অবিলম্বে হামলাকারীদের খোঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে । বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের মহাদুর্যোগময় সময়ে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার আসন থেকে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে গরীব ও দুস্থদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করতে গেলে স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। হামলায় নজরুল ইসলাম আজাদসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের নির্দেশে ‘FIGHT TODAY, LIVE TOMORROW’ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই সমন্বিত উদ্যোগ ও সামাজিক সচেতনতা। আসুন সবাই মিলে আজকে লড়ি, আগামীতে সুস্থ ও সুন্দরভাবে বাঁচি’- স্লোগানকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান পুত্র অয়ন ওসমানের পক্ষ থেকে মশক নিধন কার্যক্রম ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন নারায়নগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ। শুক্রবার বিকেল ৪টায় বন্দরের রেললাইন বাস স্টান্ড, হাফেজীবাগ, শাহী মসজিদ পল্লি বিদ্যৎ মোড়, খালপার,রাজবাড়ী ,বন্দর ঘাট সহ বিভিন্ন এলাকায় এ সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরন করা হয়। জেলা ছাত্রলীগের বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুত্তি বিষয়ক সম্পাদক আসিফুল আলম অর্নবের উদ্যোগে উপস্থিত ছিলেন নারায়নগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মুরছালিন মোল্লা , উপছাত্রবৃত্তি সম্পাদক মোঃ হৃদয়,সহ -সম্পাদক মোঃ রাব্বি। লিফলেট বিতরনকালে স্থানীয় এলাকাবাসী বলে ‘‘প্রায় পুরো দেশ ব্যপি ডেঙ্গু রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নারায়নগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের এক ঝাঁক তরুন নানামূখী উদ্যোগ গ্রহন করেছে,যা সত্যেই প্রশংসার দাবি রাখে। তাদের এ মূহতী কার্যক্রমে আমরাসাধুবাদ জানাই’’ সেই সাথে আগামীতেও তাদের এমন সময় উপযোগি বিষয় নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যহত থাকবে বলে আশা রাখে। নারয়নগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মুরছালিন মোল্লা বলেন ‘‘ ডেঙ্গু মোকাবেলায় জনসচেতনতা দরকার।সাধারন জনগনকে সচেতন করতে আমাদের তরুণ প্রজন্মের আইকন একেএম অয়ন ওসমানের পক্ষে আমরা গণসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করছি। আমরা ডেঙ্গুর লক্ষন, প্রতিরোধ ও প্রতিকারে করণীয় সম্পর্কে নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। যা অব্যহত থাকবে। আমরা ডেঙ্গু মুক্ত নারায়নগঞ্জ চাই। তা অব্যশই সম্ভব যদি সবাই সচেতন হই। ভবিষ্যতেও আমরা আমাদের নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সুযোগ্য সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসমাঈল রাফেল ভাইয়ের নির্দেশ অনুযায়ী সকল প্রকার সামাজিক কাজ অব্যাহত রাখবো জেলা ছাত্রলীগের বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুত্তি বিষয়ক সম্পাদক আসিফুল আলম অর্নব বলেন ডেঙ্গু প্রতিরোধে সকলের সচেতন হতে হবে। এডিস মশা ডিম পাড়ে যেখানে পানি জমে থাকে। এ জন্য টব, ফুলদানি, প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের ড্রাম, মাটির পাত্র, বালতি, টিনের কৌটা, ডাবের খোসা, স্বচ্ছ পানি জমা থাকে যেখানে এডিস মশা বংশ বিস্তার করতে পারে সেগুলোও পরিষ্কার রাখতে হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বন্দর থানা ছাত্রলীগের নেতা মোঃ কানন মোঃ পাশা মোঃ সাহেদ মোঃ মারুফ,বায়োজিদ,অনিক,সেলিম প্রমূখ ।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি : লক্ষনখোলা আলহাজ্ব ফজলুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ( ইংরেজী)

                                                               নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
লক্ষনখোলা আলহাজ্ব ফজলুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় । লক্ষনখোলা , বন্দর , নারায়নগঞ্জ। এ বিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে একজন সহকারী শিক্ষক ( ইংরেজী) আবশ্যক। আগামী ১৬.০৭.২০১৮ ইং তারিখের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রধান শিক্ষক বরাবর আবেদন করুন।
                                                                                                                      প্রধান শিক্ষক
                                                                                                                 ০১৯১২৯২৩৭১৮

না.গঞ্জ অনলাইন প্রেসক্লাবে জেলা তথ্য অফিসের প্রেস ব্রিফিং


ষ্টাফ রিপোর্টার ) : সরকারের সাফল্য অর্জন ও উন্নয়ন ভাবনা বিষয়ে জনগণকে অবহিত করণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করণের লক্ষ্যে শনিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ অনলাইন প্রেসক্লাব কার্যালয়ে সাংবাদিকদের নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা তথ্য অফিস। নারায়ণগঞ্জ অনলাইন প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক ও লিগ্যাল রিপোর্ট ডটকমের সম্পাদক এড. শাহ আলী, মো. পিন্টু খানের সভাপতিত্বে জেলা তথ্য অফিসার সিরাজ উদ-দৌলা খান প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে রূপকল্প ২০২১ গ্রহণ করা হয়। এমডিজিতে সাফল্যের পর ২০১৬ সাল থেকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ মাত্রা বাস্তাবায়নের পথে এগিয়ে চলছে দেশ। বর্তমানে বাংলাদেশ স্বল্প উন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে অগ্রগামী হয়েছে। দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা মুক্তি. বাসস্থান নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন জনগণের দোর গোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌছে দেয়া, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নারীর ক্ষমতায়ন বাস্তবায়ন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছানো, সর্বপরি জনগণের দোর গোড়ায় সেবা পৌছানোর লক্ষ্যে ডিজিটাল বাংলাাদেশ করা। আর এই লক্ষ্য নিয়েই বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছেন। উক্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে সহকারী তথ্য অফিসার সেলিম মাহমুদ সাংবাদিকদের উন্মুক্ত আলোচনায় মতামত প্রকাশ করার আহ্বান জানালে, মতামত প্রকাশ করেন টাইমস নারায়ণগঞ্জ ২৪ ডটকমের প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ, ফটো নারায়ণগঞ্জ ডটকমের সম্পাদক মো. এনামুল হক সিদ্দিকী, নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ ডটকমের সম্পাদক সৈয়দ সিফাত আল রহমান লিংকন, পথের সময় ডটকমের সম্পাদক তৌকির আহমেদ রাসেল, দৈনিক বিজয় পত্রিকার প্রকাশক হাজী কামাল প্রধান, বজ্রধ্বনি ডটকমের সম্পাদক শাহাদাত হোসেন তৌহিদ, দৈনিক ডান্ডিবার্তা পত্রিকার বার্তা সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন, দৈনিক ডেসটিনি পত্রিকার নারায়ণগঞ্জ সদর প্রতিনিধি মো. ইউসুফ আলী প্রধান, শিক্ষা তথ্য ডটকমের সম্পাদক মো. হাইউল ইসলাম, নির্বাহী সম্পাদক জে.কে. রাসেল, খবর নারায়ণগঞ্জ ডটকমের ফটো সাংবাদিক মো. মশিউর রহমান, বিপ্লবী বাংলাদেশ ডটকমের প্রতিনিধি মাহমুদুল হাসান ও দৈনিক দেশের আলোর ফটো সাংবাদিক মো. সাদ্দাম হোসেন মীর্জা প্রমুখ। প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ অনলাইন প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব ও একুশের কাগজ ডটকমের সম্পাদক এম এ মান্নান ভূঁইয়া।

পাইওনিয়ার মুক্ত স্কাউটস গ্রুপের ৪দিন ব্যাপী কর্ম সূচী সম্পন্ন


মোঃ আবু সাইদ মিয়া ঃ  পাইওনিয়ার মুক্ত স্কাউটস গ্রুপের বাৎসরিক কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ৪দিন ব্যাপী কার্যক্রম অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। মুক্রবার স্বল্পেরচক কোট পাড়া হাফেজি বাগ দত্ত ও ঠাকুর বাড়ী এলাকায় কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ক্যাম্প কর্মসূচী পালন করে। পাইওনিয়ার মুক্ত স্কাউটস গ্রুপের সভা পতি মোঃ কবির হোসেন বি.এস.সি.এর সভাপতিত্বে এ কর্মসুচীতে সংগঠনের স্কাউট গার্লস ইন স্কাউটিং রোবার সদস্যরাসহ সালাহ উদ্দিন কিন্ডার গার্টেন এন্ড জুনিয়র জুনিয়র স্কুল,গ্লোবাল ইন্টারন্যশনাল স্কুল,হাজী ফজলুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিদ্যালয়ের স্কাউটস বৃন্দ অংশ গ্রহন করে। সকাল ৯টা হতে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট এলাকা সমুহে জনগনকে স্স্থ সম্মত সৌচাগার ব্যাবহারে উৎশাহী এবং অসাস্থকর সৌচাগার না করার জন্য উদ্বুদ্ধকরন কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে ভুউষী প্রশংশা অর্জন করে।চলমান কর্মসুচীর সমাপনী অনুষ্ঠানে সিকদার আবদুল মালেক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪দিন ব্যাপী সংগঠনটি তাদের নবাগত ১৭জন গার্ল ইন স্কাউটিং সদস্যদের দীক্ষা প্রদান এবং ২০জন স্ট্যান্ডার্ড কোর্সসম্পন্ন সদস্যদের ব্যাজ প্রদান করেন।দীক্ষা প্রদান করেন ভারপ্রাপ্ত গ্রুপ স্কাউট লিডার মোঃ জামির হোসেন শাহীন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন নাসিকর ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরসাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান,সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর শাওন অংকন,সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্ঠা স.ম.খলিলুর রহমান(এনপিসি)কমডেকা প্রগ্রাম সমন্বয়কারী মোঃ শাহাজাদা রিপন,ফজলুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আঃ হালিম,বাংলাদেশ গার্লস গাইডের প্রাক্তন ট্রেনার রোকসান আরা বেগম,নির্বাহী সদস্য,অভিভাবকবৃন্দ,শিক্ষার্থী শিক্সক আমন্ত্রিত অতিথি ও এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।সাগত বক্তব্যে স ম খলিলুর রহমান সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে  কমডেকা প্রগ্রামের বিষয়বস্ত সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি বলেন পাইওনিয়ার মুক্ত স্কাউটস দলটি যেভাবে বন্দরে তাদের স্কাউটস কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এমনি ভাবে উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ে স্কাউটস কার্যক্রম বেগবান করা যায় তবেই বিদ্যালয় পড়–য়াদের দূণীতি সন্ত্রাস বিপদগামিতা থেকে দূরে রাখা সম্ভব। প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুলাল প্রধান বলেন স্কাউটিং বিশ্ব ব্যাপী এমনই একটি আন্দোলন যা ছেলে বেলা থেকেই একজন শিশু কিশোরকে সু নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে। পাইওনিয়র মুক্ত স্কাউটস গ্রুপ বন্দরের একটি ঐতিহ্যবাহী স্কাউটস গ্রুপ। এই গ্রুপ থেকে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত স্কাউটাররা সমাজের বিভিন্ন স্তরে আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেভাবে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ শিক্ষাঙ্গনের দিকে ছুটে আসছে তাতে করে এক রুখতে হলে বিদ্যালয় সমূহে শিক্সার পাশাপাশি বিকল্প ভাবতে হবে। তাই আমি মনে করি স্কাউটিংই একমাত্র বিকল্প শিক্ষা। যার মধ্যে আমাদের ছেলে মেয়েরা অবসর সাহিত্য-সাস্কৃতিক খেলা ধুলা এমন স্কাউটিংয়ের প্রশিক্সনের মধ্যে নিজেকে লিপ্ত রাখবে। তবেই তারা বিপদ গামী হতে দুরে থাকতে পারবে। পরে তিনি অংশ গ্রহন কারীদের মাঝে সনদ বিতরন করেন।  

প্রযুক্তি এমন পর্যায়ে পৌছেছে এখন গ্রাম আর শহরের মধ্যে কোন তফাৎ নেই : বন্দর ইউএনও মৌসুমী হাবিব



মোঃ আবু সাইদ মিয়া ঃ বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী হাবিব বলেছেন, প্রযুক্তি এমন পর্যায়ে পৌছেছে এখন গ্রাম আর শহরের মধ্যে কোন তফাৎ নেই। সুতরাং সন্তানদের পড়া-লেখা করাবেন তাদের ভবিষ্যত নিয়মের নিমিত্তেই গড়ে উঠবে। শুক্রবার বিকেল ৪টায় বন্দর উপজেলাধীন নরপদীস্থ হাজী আবদুস সালেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড ডে মিল কার্যক্রম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার  বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধাণ অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। মৌসুমী হাবিব আরো বলেন,তোমরা কখনো মা-বাবার অবাধ্য হবে মা-বাবার পরে শিক্ষকদের কথা শুনবে। তাহলে তোমরা বড় কিছু হতে পারবে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব দেলোয়ার হোসেন প্রধাণ। বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সেলিম মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন দৈনিক বিজয় পত্রিকার সম্পাদক সাব্বির আহমেদ সেন্টু,কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য উম্মে হাবিবা পান্না,মোঃ সাহাবুদ্দিন,কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মোঃ অলিউল্লাহ মেম্বার,বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি মঞ্জু আক্তার ও ঘারমোড়া বিশ^ নবী ইসলামিয়া আলীম মাদরাসার বিদ্যোৎসাহী সদস্য মোঃ লিয়াকত আলী। বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নাজমুল হাসান রনির সঞ্চালনায় এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোঃ হোসেন,হাসেম ডিলার,জহিরুল হক মোঃ জাকির হোসেন,আসাবুদ্দিন খান,আলমচান খান,মোঃ মোস্তফা,মহসিন প্রধাণ,সুমন প্রধাণ,ইকবাল হোসেন,মোঃ ফারুক প্রমুখ। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তাহমিনা তানিয়া চৌধুরী।

ইতিহাস ঐতিহ্যে ভরপূর নারায়নঞ্জ জেলার সংক্ষিপ্ত তথ্য


নারায়ণগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের অত্যন্ত প্রাচীন এবং প্রসিদ্ধ অঞ্চল যা মধ্যাঞ্চলের ঢাকা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। সোনালী আশঁ পাটের জন্য প্রাচ্যের ড্যান্ডি নামে পরিচিত। শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে অবস্থিত একটি বিখ্যাত নদী বন্দর।

ভৌগোলিক সীমানা

পূর্বে - ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা, পশ্চিমে - ঢাকা, উত্তরে - নরসিংদী ও গাজীপুর এবং দক্ষিণে - মুন্সিগঞ্জ জেলা। ঢাকা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকায় পাললিক মাটি জাতীয় সমতল ভূমিতে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ শহর।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ

নারায়ণগঞ্জ জেলার অভ্যন্তরীণ মানচিত্র
২৯২ বর্গমাইল এলাকা নিয়ে ১৯৮৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জকে জেলা হিসেবে ঘোষনা করা হয় যা ৫টি উপজেলা নিয়ে গঠিত । ১৮৮২ সালে নারায়ণগঞ্জকে মহকুমা ঘোষিত হয়, যা ১৯৮৪ সালে জেলায় উন্নীত হয়। ২০১১ সালের ৫ই মে নারায়ণগঞ্জ সদরকে সিটি কর্পোরেশন করা হয় ।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ৭টি থানায় বিভক্ত। সেগুলো হল -
  • নারায়ণগঞ্জ সদর,
  • ফতুল্লা থানা,
  • সিদ্ধিরগঞ্জ থানা,
  • বন্দর থানা,
  • আড়াইহাজার থানা,
  • রূপগঞ্জ থানা ও
  • সোনারগাঁও থানা।
এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলায় উপজেলা ৫টি। সেগুলো হল -
  • নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা,
  • বন্দর উপজেলা,
  • আড়াইহাজার উপজেলা,
  • রূপগঞ্জ উপজেলা ও
  • সোনারগাঁও উপজেলা।
* মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ৬৩টি,
* গ্রাম- ১৩৩টি, মহল্লা ৭৪টি।
* পৌরসভা - ০১টি- সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভা।
* ৫টি ইউ,পি নিয়ে ডি.এন.ডি এলাকা গঠিত। এর আয়তন ৮,৫৪০ একর।
* সিটি কর্পোরেশন - ০১টি। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা, বন্দর থানার কদমরসুল ও সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভা নিয়ে এ কর্পোরেশন গঠিত হয়েছে)

ইতিহাস

১৭৬৬ সালে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা বিকন লাল পান্ডে (বেণুর ঠাকুর বা লক্ষীনারায়ণ ঠাকুর নামে ও পরিচিত) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিকট থেকে এ অঞ্চলের মালিকানা গ্রহণ করেন। তিনি প্রভু নারায়ণের সেবার ব্যয়ভার বহনের জন্য একটি দলিলের মাধ্যমে শীতলক্ষা নদীর তীরে অবস্থিত মার্কেটকে দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করেন। তাই পরবর্তীকালে এ স্থানের নাম হয় নারায়ণগঞ্জ। সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ নামের কোনো নগরীর অস্তিত্ব প্রাচীন বাংলার মানচিত্রে পাওয়া যায় না।
নারায়ণগঞ্জ নামকরনের পূর্বে সোনার গাঁ ছিল প্রাচীন বাংলার রাজধানী। মুসলিম আমলের সোনার গাঁ নামের উদ্ভব প্রাচীন সুবর্ণগ্রামকে কেন্দ্র করেই। বহু অঞ্চলে মুসলিম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ঢাকা নগরের অভ্যুদয়ের পূর্ব পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ-পূর্ববঙ্গের প্রশাসনিককেন্দ্র ছিল সোনার গাঁ। ফিরোজ শাহ চতুর্দশ শতাব্দির প্রায় প্রথমদিকে এই অঞ্চল নিজেদের দখলে নিয়ে তা অন্তর্ভুক্ত করেন লখনৌতি রাজ্যের। এর ফলে ঘটে হিন্দু রাজত্বের অবসান। সোনারগাঁ লখনৌতি রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকে গিয়াসউদ্দীন বাহাদুর শাহ-এর ক্ষমতালাভের (১৩২২) পূর্ব পর্যন্ত সময়ে সোনারগাঁয়ের গুরুত্ব সাময়িকভাবে কিছুটা কমে গেলেও এটি একটি বন্দর ও টাঁকশাল শহর হিসেবে গুরুত্ব পেতে থাকে। ১৩২৪ খৃস্টাব্দে গিয়াসউদ্দীন তুঘলক বাংলা অধিকার করে সাতগাঁও, লখনৌতি ও সোনারগাঁ- এই তিনটি প্রশাসনিক অংশ বা ইউনিটে বিভক্ত করেন। ১৩৩৮ থেকে ১৩৫২ খৃস্টাব্দ পর্যন্ত সোনারগাঁ ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন রাজ্যের রাজধানীর মর্যাদা লাভ করে। বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ। তিনি সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের সাহায্যকারী ছিলেন। ১৩৩৮ খৃস্টাব্দে সুলতানের মৃত্যু ঘটলে দিল্লী হতে নতুন শাসনকর্তা নিয়োগে বিলম্ব হলে তিনি বিদ্রোহ ঘোষণা করে সোনার গাঁ অধিকার করেন। শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ সোনারগাঁ দখল করেন ১৩৫২ খৃস্টাব্দে। সেখান থেকে জারি করা হয় মুদ্রা। সুদুর বাগদাদ নগরী থেকে দিল্লী আধ্যাত্নিক সাধু সম্রাট শাহ ফতেহউল্লাহ্ ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে এখানে আসেন। পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যুর পরে এখানেই কবরস্থ করা হয়। তার নাম থেকেই বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত সুফী সাধকের স্মৃতি বিজড়িত এক সময় পরগনা নামে পরিচিত এই এলাকার একটি অঞ্চল ফতেহউল্লাহ্ বা ফতুল্লা নামকরন করা হয়।
মুসা খানের পতনের পর (১৬১১) সোনার গাঁ মুঘল সুবাহ বাংলার একটি সরকারে পরিণত হয়। সোনারগাঁয়ের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বের দ্রুত পতন শুরু হয় ঢাকার মুঘল রাজধানী স্থাপনের (১৬১০) পর থেকেই। সোনারগাঁয়ের একটি অংশে ঊনবিংশ শতাব্দির শেষ থেকে বিংশ শতাব্দির প্রথমদিকে গড়ে উঠেছিল পানাম নগর। নানা স্থাপত্য নিদর্শন থেকে এটা সুস্পষ্ট যে, বর্তমান পানাম নগর ও খাস নগরের মধ্যবর্তী এলাকার বিস্তৃত হিন্দু আমলের রাজধানী শহর মুসলিম আমলে সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত হয়নি, সম্ভবত এই স্থানে প্রথমদিকের মুসলিম শাসনকর্তাদের আবাসস্থল ছিল।
মোগল আমলেরও পূর্বে খিজিরপুর, কদমরসুল ও মদনগঞ্জ বাণিজ্যিক অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক নদীবন্দর ছিল। পলাশী যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর কাছে বাংলার শেষ নবাবের পরাজয়ের পর পর ইংরেজরা দল বেঁধে এ অঞ্চলে আসতে থাকে ব্যবসা-বাণিজ্যের আশায়। সে সময় এ অঞ্চল পাট, লবণ ও বিভিন্ন ধরনের খাবার মসলার জন্য বিশ্বখ্যাতি অর্জন করেছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আগমনের সঙ্গে সঙ্গে শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ের গুরুত্ব বাড়তে থাকে। রাজধানী ঢাকা ও সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এবং বর্তমান নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে (শীতলক্ষ্যার পশ্চিমপাড়) সড়ক ও জল পথের সুন্দর যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কোম্পানির লোকেরা শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম সড়কে অধিক গুরুত্ব দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। একের পর এক নিম্ন জলাভূমি ভরাট করে গড়ে তোলে ঘরবাড়ি। কোম্পানির আগে মোগল সরকারের আমলে এই নদী বন্দর থেকে ব্যবসায়িক রাজস্ব আয় ছিল ৬ হাজার ৪৪৭ টাকা ১০ আনা ৯ পয়সা। কোম্পানির আমলে ১৮৫০ সালে এই বন্দর থেকে ৩ কোটি গজ চট বস্ত্র ইউরোপ, আমেরিকায় রফতানি করে। তখন ১০০ চট বস্ত্রের মূল্যে ছিল ৭ টাকা। পলাশী যুদ্ধে যেসব ব্যক্তি ইংরেজদের সাহায্য ও সহযোগিতা করেছিল তাদের প্রত্যেককে ইংরেজ সরকার পুরস্কৃত করে। এই সুবাদে বাংলা ১১৭৩ সালে ভীখন লাল ঠাকুর ওরফে লক্ষ্মী নারায়ণ ঠাকুর কোম্পানির নবাব মোজাফফর জঙ্গের (মহম্মদ রেজা খান) কাছ থেকে একটি দলিলের মাধ্যমে এই অঞ্চলের ভোগস্বত্ব লাভ করেন। লক্ষ্মী নারায়ণ ঠাকুরের নামে উৎসর্গকৃত বলে এই অঞ্চলের নাম খিজিরপুর বদলিয়ে অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে এই অঞ্চলের নামকরণ করা হয় নারায়ণগঞ্জ। নরসিংদীর টোকবর্গী থেকে মুন্সীগঞ্জের মোহনা পর্যন্ত দীর্ঘ ৬৫ মাইল শীতলক্ষ্যা নদী নারায়ণগঞ্জের ওপর দিয়ে প্রবাহিত। ইংল্যান্ডের টেমস নদীর পর পৃথিবীর দ্বিতীয় ‘হারবার’ বেষ্টিত শান্ত নদী শীতলক্ষ্যা। এক সময় ইংল্যান্ডের ওষুধ কোম্পানিগুলো ওষুধ তৈরির কাজে এই নদীর স্বচ্ছ সুশীতল পানি ব্যবহার করতো। কোম্পানি এ অঞ্চলকে আধুনিক শিল্প বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ১৮৭৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর লক্ষ্যা নদীর পূর্ব পাড় কদমরসুল, বন্দর ও মদনগঞ্জ এবং পশ্চিম পাড়ের মোট ৪.৫ বর্গমাইল এলাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা ঘোষণা দেয়া হয়। প্রথম পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মি. এইচটি ইউলসন। ১৮৬৬ সালে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ের সঙ্গে ডাক যোগাযোগ ব্যবস্থা শুরু হয়। এ সময় রানারের মাধ্যমে ডাক সরবরাহের ব্যবস্থা ছিল। ডাক বিভাগের শাখা ছিল বরপা, হরিহরপাড়া, নবীবগঞ্জ, কাইকারটেক, শীতলক্ষ্যা, টানবাজার ও সোনারগাঁয়ের পানাম নগরীতে। ইংরেজরা তাদের নিজেদের ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করার জন্য ব্যক্তিগত এক্সচেঞ্জ বসিয়ে ১৮৭৭ সালে টেলিফোন সার্ভিস চালু করেন। ইংরেজরা তাদের একচেটিয়া বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বণিকদের উৎসাহিত করতে নারায়ণগঞ্জ নৌবন্দরকে ১৮৮০ সালে ফ্রিপোর্ট ঘোষণা দেয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নারায়ণগঞ্জের আগমনের পর পর উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী নদী পথে নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে সমুদ্র পথের চট্টগ্রাম বন্দর, কলকাতাসহ বিভিন্ন নদী পথে নৌ-পরিবহন ব্যবস্থা চালু হয়। তখন কলকাতা ও আসাম থেকে যাত্রী এবং মালামাল নিয়ে নারায়ণগঞ্জ নৌবন্দরে স্টিমার ভিড়তো। এ সময় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থান ভ্রমণের একমাত্র পথ ছিল নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর। এ জন্য নারায়ণগঞ্জকে বাংলা ভ্রমণের প্রবেশদ্বার বলা হতো। যাত্রী সাধারণের সুবিধার দিকে নজর দিয়ে ও মালামাল পরিবহন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ১৮৮৫ সালে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-ময়মনসিংহ ট্রেন সার্ভিস চালু হয়। সব মেইল ট্রেন এই নারায়ণগঞ্জ থেকেই ছেড়ে যেত। ফলে ভারতবর্ষের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ শিল্প ও বন্দর নগরীর যোগাযোগ স্থাপিত হয়। স্থল পথ, জল পথ ও টেলিযোগাযোগের সুব্যবস্থার কারণে বিশ্ব বাণিজ্য বাজারে স্থান করে নেয়।
৫২ এর ভাষা আন্দোলন নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে স্বরণীয় ও বরণীয় এক অধ্যায়। যেহেতু নারায়ণগঞ্জ থেকে ২০ কিঃমিঃ অদুরেই অবস্থিত ঢাকা জেলা, তাই পার্শ্ববর্তী জেলা হিসেবে পাকিসত্মানী স্বৈরশাসককে উৎখাত করার জন্যই এ এলাকার জনগন ছিল প্রতিবাদমুখর। তৎকালীন ছাত্রনেতা শামসুজ্জোহা, বজলুর রহমান, বদরম্নজ্জামান, মফিজ উদ্দিন, হাবিব রশিদ, সুলতান মাহমুদ মলি­ক, কাজী মজিবুর , শেখ মিজান ও এনায়েত নগরের শামসুল হক প্রমুখের নের্তৃত্বে ভাষা আন্দোলনে স্বক্রীয় ভূমিকা নিতে সক্ষম হন। এখনও এ অঞ্চলের প্রতিটি মানুষ ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে অমত্মরে ধারন করে প্রতিবৎসর ২১শে ফেব্রম্নয়ারী প্রভাতফেরীতে অংশগ্রহন করেন।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে এক বলিষ্ট ভূমিকা ছিল নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলাধীন সুসংঘঠিত মুক্তিযোদ্ধাদের কমান্ডার এম,এ গনি, মোহাম্মদ আলী, মোঃ নাসির উদ্দিন, মহিউদ্দিন রতন, নুরম্নল ইসলাম, মোঃ সামসুল হক, মমিনুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান প্রমুখ উলে­খযোগ্য। ফতুল্লার পঞ্চবটিতে ডালডার মিল নামের এলাকা ছিল পাকসেনাদের দখলে। প্রতিরাতে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে এনে যুমনা জেটির কাছে নিয়ে আসত এবং গুলিবর্ষন করে হত্যার পরে লাশগুলো বুড়িগঙ্গা নদীর জলে নিক্ষেপ করে ভাসিয়ে দেওয়া হতো জানা যায়। মুক্তিযোদ্ধা দুলাল ও আমিনুর ডিক্রিরচর ও কানাইনগরে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি শক্তিশালী গ্রুপ তৈরী করেন। বাবুরাইলের মুক্তিযোদ্ধা শরিফুল আশ্রাফ যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ কৃতিত্ব দেখাতে সক্ষম হন।

অর্থনীতি

নারায়ণগঞ্জ জেলার কাঁচপুর শিল্প এলাকা গড়ে উঠেছে শীতালক্ষা নদী তীর ঘেঁষে।
রপ্তানী শিল্পে পাট যখন বাংলাদেশের প্রধানতম পণ্য, তখন নারায়ণগঞ্জ "প্রাচ্যের ডান্ডি" নামে খ্যাত থাকলেও বর্তমানে নিট গার্মেন্টস ও হোসিয়ারী হোসিয়ারী শিল্পের জন্য সুপরিচিত। নিটওয়্যার রপ্তানীকারকদের সংগঠন "বিকেএমইএ" ও হোসিয়ারী শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রধান কার্যালয় "হোসিয়ারী সমিতি" নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত। ফতুল্লা এনায়েতনগর এলাকায় অবস্থিত বিসিক শিল্পনগরীতে প্রায় ৭০০ গার্মেন্টস আছে। সারা নারায়ণগঞ্জ শহরে প্রায় ১ হাজার রপ্তানীমুখী গার্মেন্টস আছে। এগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ গার্মেন্টসই নিট গার্মেন্টস। বর্তমানে নারায়নগঞ্জের তৈরী পোষাক রাজধানী ঢাকাতে ও বেশ সুনাম অর্জন করতে পেরেছে।
বর্তমানেও নারায়ণগঞ্জ পাট শিল্পের জন্য বিখ্যাত। বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাটকল আদমজী পাটকল নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত ছিল যা বর্তমানে বন্ধ করে আদমজী ইপিজেড গড়ে তোলা হয়েছে। পাট ব্যবসায়ী ও রপ্তানীকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশন বা বিজেএ এর প্রধান কার্যালয় নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত।
দেশের প্রধান নদীবন্দর নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত যা শতবছরের পুরনো। সবচেয়ে বড় সারের পাইকারী বাজার নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত। দেশের প্রধানতম লবণ কারখানা ও নির্মান সামগ্রীর পাইকারী বাজারের জন্য ফতুল্লা বিখ্যাত। এছাড়া লবন, গম, আটা ও ময়দা পাইকারী ব্যবসা ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। দেশের প্রধানতম সিমেন্ট কারখানাগুলো সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা নদীর তীরজুড়ে গড়ে উঠেছে। নারায়ণগঞ্জ ও রূপগঞ্জ উপজেলা ব্যতিত সকল উপজেলার প্রধান অর্থনীতি হলো কৃষি্।
রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁও অঞ্চলের জামদানি ও মসলিনের কাপড় তৈরির ইতিহাস প্রায় সাড়ে ৪ শত বছরের পুরোনো। ইতিহাস খ্যাত মসলিন কাপড় প্রচীনকালে এখানে তৈরী হতো। মিশরের মমির শরীরে পেচানো মসলিন এই সোনারগাঁয়ের তৈরি বলে জানা যায়। বর্তমানে জামদানি শিল্প টিকে থাকলেও মসলিন শিল্প বিলুপ্ত।
নারায়নগঞ্জের চাষাড়া একালা জুড়ে গড়ে উঠেছে ছোট বড় অনেক ব্যবসা কেন্দ্র। এক কথায় বলা যায় চাষাড়া এখন নারায়নগঞ্জের প্রানকেন্দ্র।

চিত্তাকর্ষক স্থান

  • পানাম নগর, সোনারগাঁও
  • (অধুনা লুপ্ত) আদমজী জুট মিল
  • সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহের সমাধি (১৩৮৯-১৪১১)
  • বাবা সালেহ মসজিদ (১৪৮১)
  • গোয়ালদী মসজিদ (১৫১৯)
  • সুলতান জালাল উদ্দিন ফতেহ শাহের এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ (১৪৮৪)
  • হাজীগঞ্জের দূর্গ
  • সোনাকান্দা দুর্গ
  • কাঁচপুর ব্রিজ
  • কদমরসুল দরগাহ
  • বন্দর শাহী মসজিদ
  • লোকশিল্প জাদুঘর
  • বিবি মরিয়মের সমাধি
  • লাঙ্গলবন্দ মন্দির (পূন্যস্নানের জন্য হিন্দু ধর্মালম্বীদের র্তীথস্থান)
  • মেরি এন্ডারসন (পর্যটনের ভাসমান রেস্তোরা)':
  • জাতীয় ক্রিকেট ষ্টেডিয়াম (৩য়), ফতুল্লা
  • এডভ্যানচার ল্যান্ড

শিক্ষা

নারায়ণগঞ্জ জেলায় আছে সরকারি বেসরকারি মোট ২০ টি কলেজ, ২০ টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়(একই সাথে স্কুল ও কলেজ),১২৬ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১৪২৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

গণমাধ্যম

জাতীয় দৈনিকগুলোর প্রচলনের পাশাপাশি শুধুমাত্র নারায়ণগঞ্জের আছে ১৫ টি দৈনিক ও ০৯ টি সাপ্তাহিক পত্রিকা।

কৃতী ব্যক্তিত্ব

  • জ্যোতি বসু - সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, ভারত।
  • পারভীন সুলতানা দিতি - অভিনেত্রী
  • মোনেম মুন্না - ফুটবলার
  • আবদুল্লাহ আল রাকিব - দাবা খেলোয়াড় (৪র্থ বাংলাদেশী গ্র্যান্ড মাস্টার খেতাবধারী)
  • শাহরিয়ার হোসেন - ক্রিকেটার
  • আতহার আলী খান - ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার
  • বেনজির আহমেদ - কবি ও লেখক
  • সেলিনা হায়াৎ আইভী - সাবেক মেয়র

চিকিৎসাসেবা

নারায়ণগঞ্জে ২টি সরকারি হাসপাতাল সহ আছে ১০১ টি কমিউনিটি ক্লিনিক যা রোগীদের নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে আসছে।

বন্দরে আবারো ভারসাম্যহীন কিশোর রিফাত নিখোঁজ

শেখ আরিফঃ বন্দরে রিফাত(১৫)নামে আবারো এক মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোর নিখোঁজ রয়েছে। গত ২৯’শে ফেব্রুয়ারী দুপুরে সে বাড়ীর কাউকে কিছু না বলে বাড়ী থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। নিখোঁজ রিফাত বন্দর শাহীমসজিদ’স্থ ঠাকুরবাড়ী এলাকার বিদেশ প্রবাশী মোঃ মনির মিয়ার ছেলে ও তরকারী ব্যবসায়ী গোল হোসেনের নাতী। এ ব্যাপারে নিখোঁজ রিফাতের দাদা মোঃ গোল হোসেন বিভিন্ন স্থানে অনেক খোজাঁখোঁজি করে না পেয়ে রবিবার সকালে বন্দর থানায় একটি জিডি এট্রি করেন। যার নং ৫৬১। জিডিতে উল্লেখ করা হয়,বন্দর শাহী মসজিদ ঠাকুরবাড়ী এলাকার বিদেশ প্রবাসী মনির হোসেনের মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলে রিফাত গত ২৯ ফেব্রুয়ারী দুপুর ২টায় কাউকে কিছু না বলে বাসা থেকে বের হয় যায়। বিভিন্ন স্থানে অনেক খোজাঁখোঁজি করেও কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারে চরম শংকা বিরাজ করছে।
 



Copyright © 2013 যুগের নারায়ণগঞ্জ
ওয়েব ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট ও থিম ডিজাইন : নাজমুল হাসান সিয়াম ও মাহমুদুল হাসান By যোগাযোগ 01712934841,01791011727. Powered by সিয়াম